১৬ জুনকে ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে চর্চার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৫-০৬-২০২৬ ০৩:১৭:৫০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৫-০৬-২০২৬ ০৩:১৭:৫০ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
তথ্যমন্ত্রী জহিরউদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘‘১৯৭৫ সালে এই দিনে দেশের গণমাধ্যমের কণ্ঠস্বর রুদ্ধ করা হয়েছিল। তাই ১৬ জুনকে শুধু ‘কালো দিবস’ হিসেবে নয়, বরং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার দিবস হিসেবেও চর্চা করা যেতে পারে।’’
সোমবার (১৬ জুন) রাজধানীর ডিএফপি সম্মেলন কক্ষে ‘বাকশালী শাসনে সংবাদপত্র বন্ধের কালো দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদ মোকাবিলায় মিডিয়ার ব্যর্থতা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালে সমস্ত গণমাধ্যমের কণ্ঠস্বরকে হত্যা করা হয়েছিল। তাই আজকের এই দিনটি শুধু সেই ঘটনার স্মারক হিসেবে নয়, আমরা চাইলে এটিকে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দিবস হিসেবেও চর্চা করতে পারি।’
তিনি বলেন, ‘যারা ১৬ জুনকে কালো দিবসে পরিণত করেছিল, তাদের বিপরীতে ১৬ জুনকেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নির্মাণের দিন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতার বিপরীতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার চেয়ে মধুর প্রতিশোধ আর হতে পারে না।’
গণমাধ্যম খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে জহিরউদ্দিন স্বপন বলেন, দেশে একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কমিশনে কোয়াসি-জুডিশিয়াল ক্ষমতা থাকতে পারে এবং এটি গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য অভিভাবকত্বের জায়গা হিসেবে কাজ করবে।
তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোতে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীনতার ভারসাম্য রক্ষায় কার্যকর প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ব্রিটেনের অফিস অব কমিউনিকেশনস (অফকম), যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) কিংবা ইউরোপীয় বিভিন্ন কমিশনের উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অংশীদারত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে বলেই সেগুলো কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নৈরাজ্য থেকে রক্ষা করতে দায়িত্বশীলতার সীমারেখাও প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের মালিক, সম্পাদক, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগ দরকার।
ভিন্নমত ও গণতান্ত্রিক চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন ফ্যাসিবাদী ও কর্তৃত্ববাদী মতাদর্শ ‘সম্মতি উৎপাদনের’ ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে বৈচিত্র্যের সহাবস্থানকে দুর্বল করে দেয়। অথচ প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব চিন্তা, আদর্শ ও স্বাতন্ত্র্য রয়েছে। তাই কেবল প্রতিক্রিয়ার মনোজগতে আটকে না থেকে ভিন্নমতকে অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দুই বা ততোধিক ভিন্ন মতের পারস্পরিক তর্ক-বিতর্ক ও প্রতিযোগিতাকে অগ্রগতির উপাদানে পরিণত করতে পারলেই একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে উঠবে। স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগেও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের প্রতি সরকারের উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স